Tag Archives: Nigeria

terrorist attack ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, গোটা গ্রামজুড়ে হামলা! মৃত অন্তত ১৭০, কোথায় ঘটল জানেন?

আবুজা: ৫ সেপ্টেম্বর রবিরার, নাইজেরিয়ায় মারাত্মক জঙ্গী হানা হল৷ ঘটনায় প্রায় ১৭০ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন৷

ঘটনাটি ঘটেছে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মাফা গ্রামে৷ মনে করা হচ্ছে এটাই এখনও পর্যন্ত সাম্প্রতিক কালের নাইজেরিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গী হানা৷

আরও পড়ুন: হরিয়াণা ভোটে কি কংগ্রেসের টিকিট পাচ্ছেন ফোগত? রাহুল গান্ধির হাতে হাত রেখে ছবি, জোর জল্পনা

নাইজেরিয়ার ‘বোকা হারাম’ নামক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনটিই এই হামলার মূলে রয়েছে৷ এক দশক ধরে তাঁরা নাইজেরিয়ার আন্তঃসীমান্ত স্ক্রাবল্যান্ডে প্রায় দশ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে৷

আরও পড়ুন: ‘তেলে চুল তাজা’ করতে চান? চুলে তেল দেওয়ার সঠিক সময় জানুন! রইল ম্যাজিক টিপস

‘বোকা হারাম’ জঙ্গী গোষ্ঠী কয়েকমাস আগেই হামলার হঁশিয়ারি দিয়েছিল৷ তারপরই বাসিন্দাদের অনেকেই নাইজেরিয়ার ইয়োবে রাজ্যের মাফা গ্রামের বাসিন্দারা পালিয়ে গিয়েছেল৷

কিন্তু প্রশাসনের আশ্বাসের পর তাঁরা আবার ফিরে যায়৷ যদিও মাফা গ্রামের গোষ্ঠী প্রধান মিঃ কানেম্বুর তা বিশ্বাস করেননি৷ তাঁর আশঙ্কাই সত্যি হল৷ জঙ্গীরা গ্রাম বাসিন্দাদের মেরে ফেলল৷ নিহতের মধ্যে বেশিরভাগই পুরুষ৷

মিঃ কানেম্বুরের সঙ্গে ইব্রাহিম হাসানও প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে৷ তিনি এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৭০ জন মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন৷ এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ বহু মানুষ৷ হামলার আঘাতে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছে, মাফা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা৷

২৪ ঘণ্টায় ১৫০ ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁয়! চেখে দেখলেন খাবারও! নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন নাইজেরিয়ান যুবক

আবুজা, নাইজেরিয়া: ফাস্ট ফুড তাঁর প্যাশন। নিজে খান। দর্শকদেরও সন্ধানও দেন ভাল ফাস্ট ফুডের। তিনি ২২ বছর বয়সী নাইজেরিয়ান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুনাচিমসো ব্রায়ান নওয়ানা। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ ফাস্ট ফুড সেন্টার ঘুরে দেখলেন তিনি। চেখে দেখলেন সেখানকার খাবার। এর সঙ্গেই তৈরি হল নতুন বিশ্বরেকর্ড। এর আগে আমেরিকান ইউটিউবার এয়ারর‍্যাকের (American YouTuber Airrack) দখলে ছিল এই রেকর্ড। তিনি ২৪ ঘণ্টায় ১০০টি ফাস্ট ফুড সেন্টারে ঘুরেছিলেন।

আরও পড়ুন– নেল কাটারের ভিতরে থাকা ছুরির মতো অংশ নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন? এদের কাজ কি জানা আছে? বেশিরভাগ মানুষই জানেন না

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫০টি ফাস্ট ফুড সেন্টারে পায়ে হেঁটে ঘুরেছেন নওয়ানা। কোনও গাড়িতে চাপেননি। আবুজাতে যানবাহনের সংখ্যা এমনিই কম। তাই প্রায় ২৫ কিমি দূরত্ব পায়ে হেঁটে ঘোরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নওয়ানা। রেকর্ডের জন্য প্রতিটা রেস্তোরাঁ থেকে যে কোনও একটি খাবার বা পানীয় কিনে খান তিনি। এটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। তা সুষ্ঠভাবেই সম্পন্ন করেছেন নওয়ানা। বিশ্বরেকর্ড গড়ে খুশি তিনি। নওয়ানা বলছেন, “নিউ ইয়র্কে প্রত্যেক রাস্তার মোড়ে মোড়ে একটা করে রেস্তোরাঁ। গাড়িঘোড়াও অনেক। কিন্তু আবুজাতে পুরো উল্টো। তাই এখানে রেকর্ড গড়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।’’

আরও পড়ুন– Schengen Visa-র আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে? তাহলে ফের আবেদন করার সময় এই ভুলগুলো ভুলেও করবেন না

ইনস্টাগ্রামে নওয়ানার একাধিক ছবি পোস্ট করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। বিভিন্ন ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁয় তাঁর খাওয়ার ছবি। একটা ছবিতে একদল অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের সঙ্গে গল্প করতে করতে খেতে দেখা যাচ্ছে নওয়ানাকে। বিকাল ৫টা থেকে পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে খেয়েছেন নওয়ানা। মাঝে ঘুমনোর জন্য কয়েকঘণ্টা বিশ্রাম নেন শুধু। তিনি বলছেন, “একদিনে যা খেলাম, তাতে এক সপ্তাহ এখন না খেলেও চলবে।’’ প্রতিটা রেস্তোরাঁ থেকে স্যুভেনিয়ার হিসাবে কিছু না কিছু চেয়ে নেন তিনি। হাসি মুখে নওয়ানার হাতে সে সব তুলেও দেন খাবার বিক্রেতারা।

আবুজার রেস্তোরাঁ এবং নাইজেরিয়ান খাবারকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এমন অসাধ্য সাধনে নেমেছিলেন বলে জানিয়েছেন নওয়ানা। শাওয়ারমা, পিৎজা থেকে ফ্রায়েড চিকেন, বার্গার – সব ধরণের খাবারই খেয়েছেন তিনি। তবে তাঁর প্রিয় নাইজেরিয়ান মইন (বিন পুডিং) এবং আমালা (ময়দার ডেলার মতো দেখতে এক ধরণের খাবার)। নওয়ানার কথায়, “আমি চাই নাইজেরিয়ান খাবারের স্বাদ উপভোগ করুক গোটা বিশ্ব।’’

আফ্রিকার গৃহযুদ্ধ থামিয়েছিলেন পেলে! সম্রাটকে দেখার জন্য ছিল ২ দিনের যুদ্ধ বিরতি

#সাও পাওলো: প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান একবার বলেছিলেন আফ্রিকার গৃহযুদ্ধ থামাতে পারে একটাই মানুষ। শক্তি প্রদর্শন করলে চলবে না। লাগবে ভালোবাসা এবং ফুটবল। রিগান যে ভুল কথা বলেননি সেটা প্রমাণ করে দিয়েছিলেন পেলে। এমন সব অর্জন আছে যা যুক্তিকে হার মানায়। কিংবা আর কখনো সেসব কীর্তির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

যেমন ধরুন তিনবার বিশ্বকাপ জয়। পেলের এই কীর্তি ছুঁতে পারেনি আর কোনো ফুটবলার। অথবা পেশাদার ফুটবলে ১ হাজার গোল।ক্যারিয়ারকে উত্তুঙ্গ উচ্চতায় তুলে তারপর ফুটবল ছেড়েছেন। শুধু শিরোপাজয় নয় পেলেকে নিয়ে অনেক ‌‘মিথ’-ও আছে। যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার গল্প তার মধ্যে একটি। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে সে গল্প।

আরও পড়ুন – পেলের কফিনে ফুটবল রেখে শেষ ভালোবাসা জানাবেন মা! তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ব্রাজিলে

ঐতিহাসিকেরা অবশ্য এখনো প্রশ্ন করে চলছেন, কালোমানিক কি সত্যিই যুদ্ধ থামিয়েছিলেন? ১৯৬১ সালে তাঁকে‌ ‘জাতীয় সম্পদ’ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিদেশি ক্লাবে বেচতে নিষেধ করা হয়েছিল। এতে পেলেকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে টাকা কামাইয়ের সুযোগটা পেয়ে যায় সান্তোস। ১৯৬৯ সালে আফ্রিকা সফরে বের হয় সান্তোস। এর দুই বছর আগেই গৃহযুদ্ধ শুরু হয় নাইজেরিয়ায়।

দেশটির পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো বিচ্ছিন্নতাবাদের লক্ষ্যে ‌এক জোট হয়ে ‘বায়াফ্রা’ রাষ্ট্র গঠন করেছিল। এই যুদ্ধে মারা গিয়েছিল ২০ লাখেরই বেশি সাধারণ মানুষ। ঘরছাড়া হয় আরও ৪৫ লাখ। কিংবদন্তি বলে, সান্তোস দল পা রাখার পর বন্দুকের গর্জন থেমে গিয়েছিল। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি রাখে দুই পক্ষ।

এর মধ্যে প্রীতি ম্যাচে নাইজেরিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে সান্তোস। জোড়া গোল করেছিলেন পেলে। দর্শকদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন উঠে দাঁড়িয়ে সম্মাননা। কয়েক ঘন্টার জন্য রক্তপাত থেমে গিয়েছিল শুধুমাত্র পেলের ম্যাজিক দেখার জন্য। এমন ছিল ফুটবল সম্রাটের মহিমা। ২০০৫ সালে টাইম ম্যাগাজিন এ নিয়ে লিখেছিল,‌ ‘বড় বড় কূটনীতিবিদরা দুই বছর চেষ্টা করেও আফ্রিকার ভয়ংকরতম এই রক্তপাত থামাতে পারেননি।

কিন্তু ১৯৬৯ সালে নাইজেরিয়ায় ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে পা রাখার পর তিন দিনের জন্য যুদ্ধ থেমেছিল। আজ পেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আফ্রিকা মহাদেশও। পেলে শুধু একজন ফুটবলারের নাম নয়। মানুষের ভালোবাসা এবং ঐক্যতার প্রতীক হিসেবেও থেকে যাবেন।